Total Pageviews

Monday, October 21, 2013

গর্ভাবস্থায় মায়ের সাধারণ সমস্যা কিভাবে নিরাময় করা যায়!

গর্ভাবস্থায় মায়ের ছোটখাটো অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে৷ অনেক সময় গর্ভবতী মা সেগুলো কাউকে বলেন না, আবার কখনও কখনও পরিবারের অন্য সদস্যরা তাতে গুরুত্ব দেন না৷ অথচ এসব সমস্যার সময়মতো উপশম না হলে গর্ভবতীর নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে৷ তাই গর্ভবর্তী মায়ের যেকোন স্বাস্থ্য সমস্যায় তাকে চিকিত্সকের কাছে অথবা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত৷


 গর্ভবর্তী মায়ের কিছু সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যার প্রতিকার ও পরামর্শঃ

*** বমি বমি ভাব বা বমি ***
 দিনের শুরুতেই গর্ভবতীর বমি বমি ভাব হয় বা বমি হয়প্রথম দিকে গর্ভ সঞ্চারের লক্ষণও এটিদিনের অন্য যেকোনো সময়ও বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারেসাধারণত গর্ভকালীন মায়েদের প্রথম তিন মাস পর্যন্ত এ লক্ষণ স্থায়ী হয়গর্ভকালীন মায়েরা তেমন কিছু খেতে পারেন নাযা খান বমি হয়ে যায়কোনো কিছুর গন্ধও সহ্য করতে পারেন নাগন্ধেও বমির উদ্রেক হয়এ সমস্যা হলে অল্প করে ঘন ঘন খাবার খেতে হবেসকালে ঘুম থেকে উঠেই বিস্কুট, টোস্টজাতীয় শুকনো কিছু খাবার খেলেও উপকার পাওয়া যায়তৈলাক্ত খাবার কম খেলেও উপকার পাওয়া যায়বমি খুব বেশি হলে বা সমস্যাটা তিন মাসের বেশি স্থায়ী হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে

*** বুক জ্বলা বা এসিডিটি ***
 গর্ভকালে এ সমস্যাটা অনেকেরই হয়গর্ভকালে প্রজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায় বলে এসিডিটি হয়এসিডিটি বা বুক জ্বালা হলেও অল্প করে ঘন ঘন খাবার খেতে হবেতৈলাক্ত খাবার, ভাজাপোড়া খাবার ও বেশি মসলাযুক্ত খাবার কম খেতে হবেএকসঙ্গে বেশি খাবার না খেলেও উপকার পাওয়া যায়খাওয়ার সময় পানি কম পান করতে হবেদুই খাবারের মধ্যবর্তী সময়ে বেশি বেশি পানি পান কতে হবেখাওয়ার পর পরই উপুড় হওয়া বা বিছানায় শোয়া উচিত নয়তাতে বুক জ্বালা বাড়বেচিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ সেবন করা যেতে পারে

*** কোষ্ঠকাঠিন্য ***
 গর্ভকালে প্রজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায় বলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারেকোষ্ঠকাঠিন্য একটি কষ্টকর সমস্যাকোষ্ঠকাঠিন্য থেকে অর্শ বা পাইলস এবং মলদ্বার ছিঁড়ে গিয়ে তাতে ক্ষত হতে পারেক্ষত শুকিয়ে মলদ্বার সরু হয়ে যেতে পারেকোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয়, সে জন্য দৈনিক পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবেদৈনিক অন্তত আট গ্লাস চাইআঁশ আছে এমন খাবার খেতে হবে বেশি বেশিশাকসবজি, ফলমূল, বিচিজাতীয় খাবার, ডাল, পূর্ণ দানাশস্য খাদ্য, গমের আটা, ইত্যাদিতে আঁশ বেশি আছেনিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম যেমন হাঁটাহাঁটি করাও কোষ্ঠকাঠিন্যে উপকারীকোষ্ঠকাঠিন্য থেকে সাময়িক পরিত্রাণের জন্য গ্লিসারিন সাপোজিটরি ব্যবহার করা যায়

*** অর্শ ও পাইলস ***
 দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগলে অর্শ হতে পারেঅর্শ হলে পায়খানা করার সময় মলদ্বারের রক্তনালি ছিঁড়ে রক্ত বের হয়মলদ্বারে ব্যথা হয়পাইলসের সমস্যা যেন না হয়, সে জন্য কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবেএ জন্য নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস করতে হবে, বেশি বেশি আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবেআর অর্শ হয়ে থাকলে মলদ্বারের ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে একখণ্ড বরফ টিস্যুতে বা বাপড়ে পেঁচিয়ে মলদারে ধরে রাখলে উপকার পাওয়া যাবেএকটা পাত্রে হালকা গরম পানি দিয়ে দিনে কয়েকবার তাতে কিছুক্ষণ বসে থাকলেও উপকার পাওয়া যাবেচিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ সেবন করা যেতে পারে

*** ঘন ঘন প্রস্রাব ***
 গর্ভাবস্থায় জরায়ু বড় হয় এবং প্রস্রাবের থলিতে বাড়তি চাপ প্রয়োগ করেএ কারণে প্রস্রাবের থলি পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রস্রাবের চাপ অনুভূত হয়সে কারণে ঘন ঘন প্রস্রাব হয়এ জন্য দুশ্চিন্তা করার কিছু নেইঘন ঘন প্রস্রাব হয় বলে পানি কম পান করা উচিত নয়; বরং পর্যাপ্ত পানিই পান করতে হবেতবে চিকিৎসকের পরামর্শমতো প্রস্রাব পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে ইনফেকশন আছে কি না বা ডায়াবেটিস আছে কি না তা দেখার জন্যথাকলে সেইমতো চিকিৎসা নিতে হবে

*** প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা ***
 সামান্য কাশি হলে বা সামান্য ভারী কিছু ওঠানোর সময় প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারাবিশেষ করে গর্ভাবস্থার শেষের দিকে এ সমস্যা দেখা দেয়প্রস্রাবের এমন সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো প্রস্রাবের রাস্তা ও মলদ্বারের আশপাশের মাংসপেশির ব্যায়াম করলে উপকার পাওয়া যাবে

*** নিম্নাঙ্গ বা পায়ের পেশিতে খিঁচুনি ও ব্যথা ***
 সাধারণত গর্ভাবস্থার দ্বিতীয়ার্ধে এবং বিশেষ করে রাতের বেলায় হাঁটুর নিচে পায়ের পেছনের পেশিতে (কাফ মাসল) খিঁচুনি ও ব্যথা হয়শোবার আগে কাফ মাসলের ব্যায়াম করলে পেশির খিঁচুনি হওয়ার আশঙ্কা কমেআর খিঁচুনি হলে পায়ের আঙুলগুলো হাঁটুর দিকে বাঁকা করে টান টান করে কাফ মাসলের স্ট্রেচিং ব্যায়াম করতে হবেতাতে খিঁচুনি কমবেবিছানা থেকে উঠে একটু হাঁটলেও খিঁচুনি ও ব্যথা কমতে পারে

*** নিম্নাঙ্গের বা পায়ের শিরা ফুলে আঁকাবাঁকা হয়ে যাওয়া ***
 গর্ভাবস্থায় বড় হয়ে যাওয়া জরায়ু পায়ের দিক থেকে রক্ত ফিরে যাওয়ার পথে কিছুটা বাধার সৃষ্টি করেতাই অনেকের ক্ষেত্রে নিম্নাঙ্গের শিরাগুলো কিছুটা ফুলে যায় এবং আঁকাবাঁকা হয়এরূপ যেন না হয়, সে জন্য বা এমন হয়ে গেলে বেশিক্ষণ ঠায় দাঁড়িয়ে না থেকে মাঝেমধ্যে একটু পায়চারি করার অভ্যাস করতে হবেহাঁটাহাঁটির অভ্যাস করতে হবেঢিলেঢালা কাপড় পরতে হবেবিশ্রাম নেওয়ার সময় পা দুটো সামান্য উঁচুতে রাখতে হবেতবে এক পায়ের ওপর আরেক পা উঠিয়ে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা উচিত হবে না

*** পিঠে বা কোমরে ব্যথা ***
 গর্ভাবস্থায় শরীরের ওজন বেড়ে যায়তা ছাড়া অস্থিসন্ধির লিগামেন্টগুলোও কিছুটা নরম ও নমনীয় হয়এসব করণে পিঠে ও কোমরে ব্যথা হতে পারেএ সমস্যা সমাধানের জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবেদাঁড়ানো বা বসার সময় মেরুদণ্ড সোজা রাখতে হবেএকটানা বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে না থেকে মাঝেমধ্যে শুয়ে বিশ্রাম নিতে হবেউঁচু হিলের জুতা ব্যবহার না করে নিচু হিলের জুতা ব্যবহার করতে হবেনিয়মিত হালকা ব্যায়াম করতে হবে

ঔষুধ সেবন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে রেজিষ্টার চিকিত্সকের পরামর্শ নিন৷

[[আপনাদের সুখী জীবনই আমাদের কাম্য। ধন্যবাদ]]
Share:

0 comments:

Post a Comment

Follow by Email

স্বাস্থ্য কথা. Powered by Blogger.

Blog Archive