Total Pageviews

Tuesday, November 19, 2013

মাথার উকুন দূর করার উপায়!

মাথার চুলে উকুন হওয়া একটা খুবই বিড়ম্বনার ব্যাপার। দেখা গেলো আপনি খুব সুন্দর করে চুল আঁচড়ে খোপা বেঁধেছেন, তারপর দেখলেন উকুনের কারণে একটু পর পর মাথা চুলকাতে হচ্ছে কি লজ্জার ব্যাপার বলুন তো। বাজারে উকুন নাশক শ্যাম্পু পাওয়া যায় কিন্তু অনেকের চামড়া খুব সেনসেটিভ হওয়ার কারণে এসব শ্যাম্পু ব্যবহার করলে কেমিক্যাল রিএকশান হয়ে উলটা আরও চর্ম রোগ দেখা দিতে পারে । তাই আসুন জেনে নেই মাথার উকুন দূর করার কিছু উপায়!




উকুন কিভাবে হয় বা ছড়ায়?
উকুন সাধারণত শিশুদের মাধ্যমে বেশি ছড়ায়। এক শিশুর জামা কাপড়, চুল থেকে আরেক শিশুর মাথায়, কাপড়ে উকুনের ডিম ছড়াতে পারে। যেসব শিশু স্কুলে পড়ে তাদের ক্ষেত্রে এরকম বেশি হয়। উকুন আছে এমন কেউ যদি কোথাও মাথা লাগিয়ে বসে তখন তার মাথা থেকে উকুনের ডিম সেখানে লেগে যেতে পারে। তারপর ঐ এক-ই স্থানে অন্য কেউ মাথা রাখলে তার মাথায়-ও উকুন ছড়িয়ে পড়তে পারে। যেমন বড় বড় সোফা গুলোতে আমরা মাথা সোফার সাথে লাগিয়ে বসি বেশির ভাগ সময়। এক-ই সুইমিং পুল বা এক-ই পুকুরের পানির মাধ্যমে উকুন ছড়াতে পারেনা। কারণ উকুন সাঁতার পারেনা। একজনের মাথার সাথে আরেকজনের মাথা লেগে থাকলে সেক্ষেত্রে উকুন ছড়াবে। যেমন- সন্তানের মাথায় উকুন থাকলে মায়ের মাথায় আসবেই। এক-ই চিরুনি, তোয়ালে ব্যবহারের মাধ্যমেও ছড়ায়।

উকুন দূর করার উপায়ঃ
-> সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে নিট কম্ব (উকুনের ডিম পরিষ্কারের জন্য চিরুনি) ব্যবহার করা। এই চিরুনি নিউমার্কেট সহ যে কোন দোকানেই পাওয়ার কথা। চুল গুলো কে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে প্রথম ১ সপ্তাহ দিনে ৩ বার করে চুল আঁচড়াবেন। ১ সপ্তাহ পরে শুধু রাতে আঁচড়াবেন। ফলে উকুনের ডিম এবং একদম নতুন যে উকুন রয়েছে মাথায় সেগুলো দূর হয়ে যাবে। নিট কম্ব ব্যবহার করার পরে তা অবশ্যই ১০/১৫ মিনিট চুলায় রাখা গরম ফুটন্ত পানিতে রাখতে হবে আর নাহলে ৩০ মিনিট ভিনেগারে চুবিয়ে রাখতে হবে।



-> চুল ভালো মত আঁচড়ে নিন। এরপর কন্ডিশনার দিন চুলে। কিছুক্ষণ চুলে এভাবে কন্ডিশনার রেখে দিন। যেহেতু কন্ডিশনার খুব পিচ্ছিল তাই বড় উকুন গুলোর চুলের সাথে আটকে থাকা বা চলা ফেরা করা খুব-ই সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এবার নিট কম্ব দিয়ে আঁচড়ে নিলে উকুন আর চুলের সাথে লেগে থাকতে পারবেনা।



-> ২ টেবিল চামচ নারকেল তেল ২ টেবিল চামচ পাতি লেবুর রস ২ টেবিল চামচ নিমপাতার রস উপরের সব গুলো উপাদান এক সাথে মিশিয়ে অথবা ব্লেনড করে তারপর মাথার চুলের গোড়ায় গোড়ায় লাগিয়ে রাখুন ১ ঘণ্টা। ১ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার লাগান। এই ভাবে সপ্তাহে যদি ২ বার চুলের যত্ন করেন ভেষজ উপায়ে তাহলে আপনি মুক্তি পাবেন যন্ত্রণা দায়ক উকুন থেকে।

-> ১০/১২ টি রসুনের কোয়া পেস্ট করে নিন। সাথে ২/৩ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এবার আধা ঘণ্টা পেস্ট টি মাথার ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। চুলে লাগানোর দরকার নেই। এরপর ধুয়ে ফেলুন। এভাবে কয়েকদিন করতে হবে।

-> শ্যাম্পু করার আগে একবার আর শ্যাম্পু করার পরে আরেকবার অ্যাপেল সিডার ভিনেগার দিয়ে পুরো চুল ভিজিয়ে নিন। অথবা চুল ভিনেগার দিয়ে ভালো ভাবে ভিজিয়ে ৩/৪ মিনিট রেখে দিন। এইটুকু সময় শুকনো তোয়ালে দিয়ে চুল আলতো ভাবে মাথার উপর উচু করে বেঁধে রাখবেন। ৩/৪ মিনিট পর নিট কম্ব দিয়ে আঁচড়ে নিন।

-> চুল বার বার শ্যম্পু করলে উকুন দূর করা যায় না বরং এতে তাদের লাভ হয়। বার বার শ্যাম্পু করার ফলে মাথার ত্বকের তেল ধুয়ে চলে যায়, ফলে রক্ত নিতে উকুনের আরও বেশি সুবিধা হয়।

-> যে কোন ফেইসওয়াশ চুলে লাগান। এরপর একবার চুল আঁচড়ে নিন অতিরিক্ত ফেইসওয়াশ দূর করার জন্য। এখন হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকিয়ে নিন। এর ফলে উকুন নিঃশ্বাস নিতে পারবেনা। কিন্তু এই পদ্ধতি রাতে করলে ভালো কারণ চুলে ফেইসওয়াশ প্রায় ৮ ঘণ্টার বেশি রাখতে হবে যেহেতু উকুন নিঃশ্বাস না নিয়ে প্রায় ৮ ঘণ্টার মত বেঁচে থাকতে পারে। সকালে চুল ধুয়ে ফেলবেন। আর সাথে অবশ্যি বালিশের কাপড়, বিছানার চাদর গরম পানিতে ধুয়ে ফেলবেন। এটা প্রতি সপ্তাহে ২/৩ দিন করতে পারেন উকুন মারার জন্য।

কখন ডাক্তার দেখাবেনঃ
প্রায় সব ক্ষেত্রেই ঘরোয়া চিকিৎসাতেই উকুন থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কিন্তু ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন যদিঃ-

১. যদি আপনি ত্বকে ঘটিত চুলকানির কোন কারণ না পান; কেননা অন্যান্য গোটা বা সংক্রামক রোগের লক্ষণের সাথে উকুন ঘটিত খোস-পাচড়ার লক্ষণের মিল দেখা যেতে পারে।
২. যদি আপনার দেহে খোস-পাঁচড়ার কোন লক্ষণ দেখা যায়|
৩. যদি সেরে ওঠার পর আবারও আপনি এই রোগে আক্রান্ত হোন|
৪. যদি আপনার ক্ষতগুলো সংক্রামিত হতে শুরু করে এবং সে ক্ষতস্থান থেকে তরল নিসৃত হয়।
৫. যদি আপনার চোখের পাপড়িতেও উকুনের ডিম বা নিক পাওয়া যায়|
৬. যদি শিশু বা ছোট বাচ্চা এই সমস্যায় আক্রান্ত হয়|
৭. যদি চুলকানির প্রকোপে আপনি অতিষ্ট হয়ে ওঠেন|
৮. যদি আপনার শরীরে গোটা ওঠে কিংবা চিকিৎসার জন্যে ব্যবহার্য শাম্পু ব্যবহারের পর যদি আপনার অবহা আরও খারাপ হয়।

সতর্কতাঃ
-> কখনো নিজের চিরুনি, বালিশ, হেয়ার ব্যান্ড, তোয়ালে, কাপড় ছাড়া অন্যেরটা ব্যবহার করবেন না।
-> সপ্তাহে এক দিন বালিশের কাভার গরম সাবান পানিতে ধুবেন।
-> নিট কম্ব আর সাধারণ চিরুণি সব সময় পরিষ্কার করবেন। ভিনেগারে আধা ঘণ্টা করে চুবিয়ে রাখলে ভালো।
-> উকুন এবং খোস-পাঁচরার দমনে যে রাসায়নিক দ্রব্যগুলোর ব্যবহার চলছিল, সেগুলো ইদানিং আর ব্যবহার করা উচিত নয়, কেননা এগুলো নিউরোটক্সিন বা বিষাক্ত এবং এগুলো আপনার মধ্যে অন্যান্য সমস্যারও উদ্রেক করতে পারে। তাই ডাক্তারের কাছে বিকল্প কোন পদ্ধতি অবলম্বনের বিষয়ে পরামর্শ নিন।

আপনাদের সুখী জীবনই আমাদের কাম্য। ধন্যবাদ।
Share:

0 comments:

Post a Comment

Follow by Email

স্বাস্থ্য কথা. Powered by Blogger.

Blog Archive