Total Pageviews

Saturday, December 7, 2013

ব্রন, মুখে এসব ব্রনের দাগের জন্য চিন্তায় কাটাচ্ছেন!

সত্যিই তাই! কিশোর বয়সে ব্রন হওয়াটা এক অনিবার্য বিড়ম্বনাই বটে। কিশোর-কিশোরীরা এ সময়টা যেন একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করে। লজ্জায় যেন মুখ লুকাতে ইচ্ছে করে। কিন্তু চাইলেই কি এ বিব্রতকর অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়? এ যে এই বয়সের অনিবার্য ঘটনা। রুখবে কে আর তারে? কাজেই ভাগ্যের এই অমোঘ পরিণতিকে সহজেই মেনে নিয়ে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে যথাসম্ভব বেঁচে থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। আর সেই করণীয় কিছু জানাতেই আজকের এ প্রসঙ্গের অবতারণা।


কেন এমন হয়?
আগেই বলেছি কিশোর বেলাটা এমনই একটা ক্রান্তিকাল যে সময়টা হচ্ছে শৈশবকালের শেষ আর যৌবনের উঁকি দেয়ার মাঝের বিশেষ এক সময়। আর এই সময়টাতেই কিশোর-কিশোরীদের দেহাভ্যন্তরে চলে বিশেষ বিশেষ কিছু পরিবর্তন। সবচেয়ে বেশি যে ব্যাপারটা ঘটে তা হলো হরমোনের উদ্দীপনা। তারই একটি লক্ষণ হলো এই ব্রন।

মূলত এন্ড্রোজেন, প্রজেস্টেরন ও ইস্ট্রোজেন নামক যৌন হরমোনের উদ্দীপনার জন্য এটা হয়। এর ফলে ত্বকের নিচে সিবাসিয়াস নামক গ্রন্থি থেকে সেবাম নামক এক প্রকার সাদা জেলির মতো পদার্থ নিঃসৃত হয়। এই সেবাম ত্বকের নিচে অবস্থান করে বিধায় ব্রনগুলো উঁচু উঁচু ঢিবির মত দেখায়। তবে যার যত বেশি সেবাম নিঃসৃত হবে তার ততোধিক মাত্রায় ব্রন দেখা দেবে। কারণ হরমোনের উদ্দীপনা ব্যক্তিবিশেষে কমবেশি হতে পারে। এ ছাড়া ত্বকের নিচে এক ধরনের ইনফেকশনের কারণেও সিবাসিয়াস গ্রন্থির উত্তেজনার কারণে ব্রন হতে পারে।

কিছু রোগের কারণেও ব্রন দেখা দিতে পারে। যেমন মোটা হয়ে যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, শরীরে লিপিডের ভারসাম্যহীনতা ইত্যাদি। আবার অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার কারণেও হতে পারে। বংশগত কারণেও কারো কারো আবার ব্রন খুব বেশি মাত্রায় হতে পারে।

এ ছাড়াও অতিরিক্ত কসমেটিকস ব্যবহারে লোমকূপগুলো বন্ধ হয়েও ব্রন হতে পারে। আবার কিছু কিছু ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াজনিত কারণেও ব্রন হতে দেখা যায়। সে রকম ওষুধগুলো হলো- স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ, খিচুনিনাশক ওষুধ, ঘুমের ওষুধ ইত্যাদি। এ ছাড়া চকলেট, ক্যান্ডি, চিপস, বাদাম সফট্ ড্রিংকস, তৈলাক্ত খাবার ইত্যাদি গ্রহণের ফলেও ব্রনের আধিক্য দেখা দিতে পারে।

ত্বকের উজ্জ্বাল্য এবং সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয় ব্রন। মুখে এসব ব্রনের দাগের জন্য চিন্তায় কাটাচ্ছেন। চিন্তার কোন কারণ নেই। 

ব্রন থেকে বাঁচতে কিছু উপায় অবলম্বন করুন, দেখুন আপনি অনেক ভাল থাকবেনঃ
— প্রথম ও পূর্বশর্তই হলো সর্বদা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। বিশেষ করে মুখমণ্ডল ধৌতকরণ প্রণালীটা ভালোভাবে জানতে হবে ও অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। মুখের ত্বককে বেশি তৈলাক্ত বা বেশি শুষ্ক হতে দেয়া যাবে না। সে জন্য দিনে অন্তত দুইবার নন-মেডিকেটেড নরম সাবান দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। পরিষ্কার করার সময় হাতের আঙুলের মাথা দিয়ে বৃত্তকারভাবে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সাবান দ্বারা মুখ পরিষ্কার করতে হবে আলতোভাবে। মুখে বেশি ঘষাঘষি করা যাবে না। আবার মুখের ব্রণ যখন তখন নখ দিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তোলার চেষ্টা না করাই ভালো, তাতে মুখের ওপর দাগ পড়তে পারে।
—  ব্রণ হলে একেবারেই আচার খাবেন না। তবে মিষ্টি চাটনি খেতে পারেন।
— বেশি পরিমাণে নিরামিষ খাবার খান। আমিষ খাবার যতটা সম্ভব না খাওয়ার চেষ্টা করুন।
— ডেইরি প্রোডাক্টসের মধ্যে হরমোনাল উপাদান বেশি পরিমাণে থাকে বলে তা খুব সহজে রক্তের সঙ্গে মিশে যায়। এই কারণেই পনির, দুধ এবং দই কম খান।
— কোল ড্রিংকস খাওয়া একেবারেই বন্ধ করে দিন।
— আচার খাবেন না। তবে মিষ্টি চাটনি খেতে পারেন।
— খুব বেশি পরিমাণে পানি খান। দিনে যদি দু লিটার পানি খেতে পারেন তা আপনার স্বাস্থ্য এবং ত্বকের ক্ষেত্রে ফলদায়ক হবে। পানি বেশি খাওয়ার ফলে শরীর থেকে পিত্ত বেরিয়ে যাবে। আপনি ব্রণের সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাবেন।
— আয়ুর্বেদের মতে অতিরিক্ত ক্রোধের ফলে শরীরে পিত্ত সঞ্চিত হয়। তাই ক্রোধ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখুন।

ব্রনের দাগ দূর করতে ভেষজ পদ্ধতিঃ
— কমলা লেবুর ছাল শুকিয়ে গুড়ো করে নিন। মুসুরির ডাল আর চাল ভিজিয়ে ভালো করে পিষে নিন। ওই পেস্টের মধ্যে চন্দন পাউডার, মুলতানি মাটি, কমলা লেবুর ছালের গুঁড়ো মিশিয়ে ভালো করে মিলিয়ে নিন। এই মিশ্রণের মধ্যে দুই চামচ দুধও মিশিয়ে নিতে পারেন। মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রাখার পরে ধুয়ে নিন। এই প্যাকটা নিয়মিত মুখে লাগান। ত্বকের জেলা বাড়বে। ব্রণের দাগও দূর হয়ে যাবে।
ব্রন দূর করবে নিম

— চার-পাঁচটা নিমপাতা ভালো করে ধুয়ে পিষে নিন। এর মধ্যে এক চামচ মূলতানি মাটি, অল্প গোলাপ জল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। প্যাকটা যদি গাঢ় হয়ে যায় তাহলে ওর মধ্যে গোলাপজল মিশিয়ে নিন। মুখে লাগিয়ে বেশ কিছুক্ষণ রেখে দিন। প্যাকটা মুখে শুকিয়ে গেলে হালকা পানি দিয়ে মুখটা ধুয়ে ফেলুন।

ব্রন সমস্যাকে খুব সহজ ঘরোয়া উপায়ে মেটানো সম্ভবঃ
এর জন্যে পরিস্কার আটার সাথে কিছুটা পরিমান মধু, পাতিলেবুর রস এবং বাদাম বাটা মিশিয়ে নিন৷ এবার এই মিশ্রনটিকে প্রতিদিন মুখের প্রলেপের মতন করে লাগাতে থাকুন৷ কয়েক সপ্তাহ ধরে এই নিয়ম মেনে চললে আপনার ব্রন সমস্যা একেবারে কমে যাবে৷

নিজেই তৈরী করুর ব্রনের ঔষুধঃ
এটির নাম নিম পাতার প্যাক। এটি মেখে আপনি খুব সহজে ব্রন থেকে পরিত্রান পেতে পারেন। আসুন জেনেনেই কিভাবে এটি তৈরী করা যায়।

৫ থেকে ৭ টি নিমপাতা পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। এখন নিমপাতা গুলিকে ভালো করে পিষে নিন। এর সাথে এক চামচ পরিমান মূলতানি মাটি ও সামান্য গোলাপ জল মিশিয়ে নিন। ব্যাস। হয়ে গেল নিমপাতার প্যাক। এখন আপনার তৈরীকৃত প্যাকটি মুখে ভালো করে লাগিয়ে নিন। ১ ঘন্টা পর সামান্য গরম পানি দিয়ে প্যাকটি তুলে ফেলুন। এভাবে কয়েকদিন ব্যবহার করুন। আশা করি ব্রন থেকে মুক্তি পাবেন।

 আপনাদের সুখী জীবনই আমাদের কাম্য। ধন্যবাদ।

Share:

0 comments:

Post a Comment

Follow by Email

স্বাস্থ্য কথা. Powered by Blogger.

Blog Archive