Total Pageviews

Wednesday, February 12, 2014

মাশরুমের উপকারিতাঃ

রোগমুক্ত স্বাস্থ্য যদি চান নিয়মিত মাশরুম খান। মাশরুম এর উপরকারী দিক গুলো সম্পর্কে এখানে বর্ননা করা হয়েছে। মাশরুম একটি সবজি জাতীয় উদ্ভিদ। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে প্রতিদিনের স্বাভাবিক খাবারে মাশরুম ব্যবহার করা হয়।



কিন্তু আমাদের দেশে এখনও তেমন পরিচিতি পায়নি। তবে আশার কথা হলো পুষ্টিগুণে ভরা উপাদেয় মাশরুমকে জনপ্রিয় করার জন্য সরকারি ভাবে নানা ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

উপকারিতাঃ
মাশরুম শরীরের জমাকৃত কোলেস্টরেল মুক্ত করে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ক্যান্সার, টিউমার, মেদভূড়ি, জন্ডিস, রক্তসল্পতা, ডেঙ্গুজ্বর প্রভৃতি দুরারোগ্য ব্যাধি প্রতিরোধক ও নিরাময় করে।

মাশরুমের সুস্বাদু খাবারঃ
মাশরুম ফ্রাই, মাশরুম মাংস, মাশরুম মাছ, মাশরুম সবজি, মাশরুম স্যুপ, মাশরুম নুডুল্স, মাশরুম ওমলেট, মাশরুম ভর্তাসহ বিভিন্ন ধরনের ফাস্টফুড মাশরুমের জনপ্রিয় সু-স্বাদু খাবার তৈরি করা যায়।

মাশরুমের পুষ্টিঃ
মাশরুমে আমিষ আছে ২৫-৩০%, চর্বি ৫-৬%, ভিটামিন, মিনারেল ও আঁশ ৫৭-৬০%, শর্করা ৪-৬%।

মাশরুমের ঔষধিগুণঃ
পুষ্টিগুনের পাশাপাশি মাশরুমের রয়েছে ঔষধিগুণও। 

=> মাশরুমে আমিষ, শর্করা, চর্বি, ভিটামিন ও মিনারেল, এমন সমন্বয় আছে যা শরীরে ‘ইমুন সিস্টেম’কে উন্নত করে। ফলে গর্ভবতী মা ও শিশুরা নিয়মিত মাশরুম খেলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি হয়। 

=> মাশরুমে চর্বি ও শর্করা কম থাকায় এবং আঁশ বেশি থাকায় এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আদর্শ খাবার। 

=> মাশরুমের আছে শরীরের কোলেস্টেরল কমানোর অন্যতম উপাদান ইরিটাডেনিন, লোভাস্টটিন এবং এনটাডেনিন। তাই নিয়মিত মাশরুম খেলে হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ নিরাময় করে। 

=> মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন-ডি, যা শিশুদের দাত ও হাড় গঠনে অত্যন্ত উপকারি। এতে আরও রয়েছে ফলিক এসিড ও লৌহ তাই মাশরুম খেলে রক্ত শূন্যতা দূর হয়। এছাড়া লিংকজাই-৮ পদার্থ থাকায় হেপাটাইটিস-বি ও জন্ডিসের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।


=> মাশরুমে আছে বি-ডি গ্লুকেন, ল্যাম্পাট্রোল, টারপিনওয়েড ও বেনজোপাইরিন, যা ক্যান্সার ও টিউমার প্রতিরোধ করে। ট্রাইটারপিন থাকাতে এটি বর্তমান বিশ্বে এইডস প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 
এডিনোসিন থাকায় এটি ডেঙ্গু জ্বরের প্রতিরোধক। স্ফিঙ্গলিপিড এবং ভিটামিন বি-১২ বেশি থাকায় স্নায়ুতন্ত্র ও স্পাইনাল কর্ড সুস্থ রাখে। 

=> মাশরুম খেলে হাইপার টেনশন দূর হয় এবং মেরুদ- দৃঢ় রাখে। 

=> মাশরুমে আছে প্রচুর এনজাইম, যা হজম শক্তি ও রুচি বাড়াতে সাহায্য করে। মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে নিউক্লিক এসিড এবং এন্টি-এলার্জেন থাকায় কিডনি রোগ ও এলার্জি প্রতিরোধক। সালফার সরবরাহ কারী এমাইনো এসিড, এটি নিয়মিত খেলে চুল পড়া ও চুল পাকা প্রতিরোধ করে। 

=> যৌন শক্তি বৃদ্ধি করে এবং শক্তিবর্ধক হিসাবে কাজ করে

বিদেশে মাশরুম ‘ঔষধ, টনিক ও খাদ্য ’ একের ভিতরে তিন হিসেবে পরিচিত। একটি মাত্র খাদ্য থেকে আমরা এতো উপকার পেতে পারি, তাই মাশরুমকে অবহেলা না করে আসুন প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় মাশরুম রাখার অভ্যাস গড়ে তুলি।

মাশরুম সম্পর্কে সতর্কতাঃ

পৃথিবীতে প্রায় ১৪০০ প্রজাতির মাশরুম রয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় শ’খানেক মাশরুম খাওয়ার উপযোগী বলে মাশরুম গবেষকেরা ধারনা দেন। এই প্রজাতিগুলো নিয়ে ব্যাপক গবেষনা চলছে! মাশরুমের অনেক প্রজাতি বিষাক্ত! এই বিষাক্ত প্রজাতি খেলে মৃত্যুর ও সম্ভাবনা থাকে!
(Fly Agaric (Amanita muscaria)বিষাক্ত মাশরুম, খাওয়ার উপযোগি না)


তাই পথে ঘাটে, আবর্জনায় পাওয়া মাশরুম খাওয়া উচিত নয়! বাজারে পাওয়া যায় এমন মাশরুম এবং মাশরুম বিশেষজ্ঞদের মতামতের উপর ভিত্তিকরে চাষকৃত মাশরুম খাওয়াই শ্রেয়! বাংলাদেশে মোট প্রায় দশ প্রজাতির মাশরুম চাষ হয়। এদের মধ্যে ওয়েস্টার, ইয়ার ও শীতাকী নামের মাশরুম বেশী চাষ করা হয়।

[আপনাদের সুখী জীবনই আমাদের কাম্য।]

Share:

0 comments:

Post a Comment

Follow by Email

স্বাস্থ্য কথা. Powered by Blogger.