Total Pageviews

Wednesday, April 23, 2014

গরমের স্বাস্থ্য সমস্যাঃ হিটস্ট্রোক!

গরমের দিনে স্বাস্থ্যগত যে সকল সমস্যা ঘটে তাদের অন্যতম ভয়াবহ হচ্ছে হিটস্ট্রোক। হিটস্ট্রোক মৃত্যুর কারণও হয়ে যেতে পারে।


✬ হিটস্ট্রোক কী?
প্রচন্ড গরমে তাপমাত্রা মানুষের সহনীয় মাত্রা অতিক্রম করলে (সাধারণত ১০৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট ছাড়িয়ে গেলে) মানুষ হঠাৎ যে স্বাস্থ্যগত বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয় তাকে বলা হয় হিটস্ট্রোক। এ অবস্থায় মানুষের শরীরের ঘাম বন্ধ হয়ে যায় এবং মানুষ অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

✬ যাদের হিটস্ট্রোক হতে পারেঃ 
১. প্রচন্ড গরমে যে কোন সময় যেকোন মানুষের হিটস্ট্রোক হতে পারে।
২. যাদের শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কম (যেমন- শিশু, বৃদ্ধ) তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে।
৩. বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তি, যাদের শরীর খুব দুর্বল তারাও বিভিন্ন হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারে।
৪. বেশ কিছু ঔষধ গ্রহণ (প্রস্রাব বাড়ানোর, বিষন্নতার এবং মানসিক রোগের) হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
৫. প্রচন্ড গরমে এবং রৌদ্রে যারা কায়িক শ্রম বেশি করেন, তারা হিটস্ট্রোকে বেশি আক্রান্ত হন।

✬ লক্ষণঃ
১. শরীর প্রচন্ড ঘামতে শুরু করে হঠাৎ ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া।
২. নিঃশ্বাস দ্রুত হওয়া।
৩. নাড়ির অস্বাভাবিক স্পন্দন হওয়া অর্থাৎ হঠাৎ ক্ষীণ ও দ্রুত হওয়া।
৪. ত্বক দ্রুত শুল্ক ও লালাভ হয়ে যাওয়া।
৫. শরীরের তাপমাত্র ১০৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যাওয়া।
৬. হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়া।
৭. হঠাৎ করে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া।
৮. হঠাৎ শরীরে খিঁচুনি হওয়া, মাথা ঝিমঝিম করা, ব্যবহারে অস্বাভাবিকতার প্রকাশ, দৃষ্টিভ্রম হওয়া, কথা-বার্তায় অসংলগ্ন হওয়া।

✬ প্রতিরোধের উপায়ঃ
সর্ব প্রকার প্রচন্ড গরম থেকে দূরে থাকা কিংবা সহনীয় তাপমাত্রায় থাকাই হিটস্ট্রোক প্রতিরোধের উত্তম উপায়। এছাড়াও-
১. গরমে হালকা ও ঢিলেঢালা কাপড় পরিধান করা।
২. যথাসম্ভব ছায়ামুক্ত স্থানে থাকা।
৩. পানিসহ প্রচুর তরল পানীয় পান করা।
৪. প্রচন্ড গরমে কাজের ক্ষেত্রে কিছুক্ষণ পর পর বিশ্রাম নেয়া ও পানি পান করা।

✬ হিটস্ট্রোকে করণীয়ঃ
১. হিটস্ট্রোকের পূর্বে বিভিন্ন লক্ষণসমেত প্রথমে হিট এক্সপ্রেশন দেখা দেয় এবং সে অবস্থাতে রোগীকে শীতল পরিবেশে এনে হিটস্ট্রোক প্রতিরোধ করা যায়।
২. আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শীতল স্থানে স্থানান্তর করতে হবে।
৩. আক্রান্ত ব্যক্তির গায়ের কাপড় ঢিলে করে দিতে হবে এবং যথাসম্ভব খুলে নিতে হবে।
৪. সর্বোপরি দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

[আপনাদের সুখী জীবন আমাদের কাম্য। ধন্যবাদ।]
Share:

0 comments:

Post a Comment

Follow by Email

স্বাস্থ্য কথা. Powered by Blogger.