Total Pageviews

Tuesday, June 10, 2014

করলার কিছু স্বাস্থ্য উপকারীতা!

করলার তেঁতো স্বাদ অনেকেই পছন্দ করেন আবার অনেকেই একেবারেই মুখে তুলতে পারেন না এই সবজিটিঅনেকেই করলা শুনলেই নাক মুখ কুঁচকে ফেলেনস্বাদে তেঁতো হলেও এর আছে অনেক গুণনিয়মিত তিতা করলা খাওয়ার অভ্যাস করলে নানান রকমের রোগ বালাই থেকে মুক্তি পাওয়া যাবেশরীরের জন্য অতি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানও করলা থেকে পাওয়া সম্ভব


করলা এশিয়া, পূর্ব আফ্রিকা, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ আমেরিকা এবং বাংলাদেশে জন্মে থাকেকরলা স্বাদে তিতা, তবে এর উপকার অনেকএশিয়া অঞ্চলে হাজার হাজার বছর ধরে করলা ওষুধি হিসাবে ব্যবহার হয়ে আসছেদক্ষিণ আমেরিকার আমাজান অঞ্চলের আদিবাসীরাও বহু বছর ধরে করলাকে ডায়াবেটিস, পেটের গ্যাস, হাম এবং হেপাটাইটিসের ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করে থাকেনকরলা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে, ম্যালেরিয়া জ্বরে ও মাথা ব্যথায়ও বেশ উপকারী

পুষ্টিমানের দিক থেকেও করলা উৎকৃষ্ট সবজিকরলায় আয়রনের পরিমাণ বেগুন, টেমেটো, মিষ্টি কুমড়া, ফুলকপি, বাঁধাকপির চেয়ে বেশি এবং ভিটামিন '-এর পরিমান মিষ্টিকুমড়া, গাজর, ঢেঁড়সবাদে অন্যসব সবজির চেয়ে বেশিখাদ্যোপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম করলায় আছে জলীয় অংশ ৯২.২ গ্রাম, আমিষ ২.৫ গ্রাম, শর্করা ৪.৩ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৪ মিলিগ্রাম, আয়রণ ১.৮ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ১৪৫০ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন বি১- ০.০৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২- ০.০২ মিলিগ্রাম, অন্যান্য খনিজ পদার্থ ০.৯ গ্রাম ও খাদ্যশক্তি ২৮ ক্যালরিখনিজ এবং ভিটামিনের অভাবজনিত সমস্যা সমাধানে করলা খাওয়া অত্যন্ত উপকারী

জেনে নিন করলার কিছু স্বাস্থ্য উপকারীতা সম্পর্কেঃ
করলাতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছেআয়রন হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য করে
করলার দ্বিগুণ পটাশিয়াম ও পালংশাকের দ্বিগুণ পরিমাণে ক্যালশিয়াম করলাতে রয়েছেদাঁত ও হাঁড় ভালো রাখার জন্য ক্যালসিয়াম খুবই জরুরিব্লাড প্রেসার মেইনটেইন করার জন্য ও হার্ট ভালো রাখার জন্য পটাশিয়াম প্রয়োজন
করলায় রয়েছে লৌহ, প্রচুর ভিটামিন এ, ভিটামিন সি ও আঁশভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি এন্টি অক্সিডেন্ট; যা সাধারণত বার্ধক্য ঠেকিয়ে রাখতে সহায়তা করে থাকে
করলাতে যথেষ্ট পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন রয়েছেদৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে ও চোখের সমস্যা সমাধানে বিটা ক্যারোটিন খুবই উপকারী
করলাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছেভিটামিন সি ত্বক ও চুল ভালো রাখার জন্য একান্ত জরুরিভিটামিন সি প্রোটিন ও আয়রন অ্যাবজর্বশনে সাহায্য করেব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে
  করলাতে রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ম্যাগনেশিয়াম, ফলিস এসিড, জিঙ্ক, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম
  ডায়েটারি ফাইবার-সমৃদ্ধ করলা কনস্টিপেশনের সমস্যা কমায়
  করলা পাতার রস খুবই উপকারীরোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলেনানা ধরনের ইনফেকশন থেকে সুরক্ষা প্রদান করেএনার্জি ও স্ট্যামিনা বাড়িয়ে তুলতেও করলা পাতার রস সাহায্য করে
করলা পাতার রস শরীর থেকে অতিরিক্ত টক্সিন ফ্ল্যাশ আউট করতে সাহায্য করে
ডায়রিয়া বা কলেরার প্রথম পর্যায়ে করলা পাতার রস খেতে শুরু করলে ভালো
অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস ও ফ্যারেনজাইটিসের মতো সমস্যা কমাতে করলা পাতার রসে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন
করলা পাতার রস সোরিয়াসিসের সমস্যা, ফাংগাল ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে
করলাতে রয়েছে পলিপেপটাইড পি ব্লাড ও ইউরিন সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করেডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে করলা বা করলার রস অথবা করলা সিদ্ধ খেতে পারেন
নানা রকমের ব্লাড ডিজঅর্ডার যেমন স্ক্যাবিজ, রিং ওয়র্ম-এর সমস্যায় করলা খুবই উপকারীকরলা ব্লাড ফিউরিফিকেশনে সাহায্য করে
  করলা স্কিনের সমস্যা ও ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে

তাই বেশি করে করলা খানআপনার খাদ্যের তালিকায় করলার অন্তত একটি আইটেম রাখুনকরলা খান সুস্থ্য সুন্দর জীবন-যাপন করুন


[আপনাদের সুখী জীবন আমাদের কাম্যধন্যবাদ।]
Share:

0 comments:

Post a Comment

Follow by Email

স্বাস্থ্য কথা. Powered by Blogger.

Blog Archive