Total Pageviews

Tuesday, October 28, 2014

পানিতে ডোবা!

নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশ৷ আমাদের দেশের চারিদিকে রয়েছে প্রচুর নদী-খাল-পুকুর৷ আমাদের দেশের বাচ্চারা এবং বড়রাও অনেক সময় অসাবধানতার কারণে মারা যায় পানিতে ডুবে৷ এই পানিতে ডোবা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায় বর্ষাকালে৷ একটু সতর্কতা অবলম্বন করলে পানিতে ডুবে মৃতু্যর হার বহুলাংশে কমানো সম্ভব৷ পানিতে ডুবে যাওয়ার পরে নাক-মুখ দিয়ে পানি ফুসফুসে প্রবেশ করার ফলে রোগীর শ্বাসরোধ হয়ে আসে আর প্রচুর পানি খেয়ে পেট ফুলে যায়৷ ২-৩ মিনিট মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতি হলে ক্ষতি হয় এবং ৪-৬ মিনিট শ্বাস বন্ধ থাকলে সাধারণত মৃতু্য ঘটে৷

লক্ষণঃ

 রোগী আংশিক বা পুরোপুরিভাবে জ্ঞান হারাতে পারে৷ জ্ঞান ফিরে এলে রোগী অস্থির হয়ে যেতে পারে৷
 ভালো করে খেয়াল করলে দেখা যাবে শ্বাসক্রিয়া বেড়ে গেছে, শ্বাসক্রিয়া চলাচলে ঘড়ঘড় শব্দ হয়৷ মাঝে মাঝে শ্বাসকার্য বন্ধ হয়ে আসে৷
 মুখমণ্ডল নীলাভ হয়ে যায়৷ মুখ দিয়ে বা নাক দিয়ে ফেনা বের হতে পারে৷ সাধারণত বমি হয়ে থাকে৷
 শরীরের তাপমাত্রা কমে যেতে পারে৷
 নাড়ী দ্রুত ও দুর্বল চলে এবং কখনো কখনো অনিয়মিত হতে পারে৷

প্রাথমিক চিকিৎসাঃ
 যদি কেউ পানিতে ডুবে যায় তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডুবন্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে হবে৷ তবে পানিতে ডোবা রোগীকে উদ্ধারের জন্য পারদর্শী লোকের প্রয়োজন৷ নতুবা উদ্ধারকারীর জীবন বিপন্ন হতে পারে৷
 যার শ্বাস বন্ধ হয়ে গেছে তাকে পানি থেকে তোলার আগেই (যদি সম্ভব হয়) নাক ও মুখে কিছু থাকলে তা দ্রুত আঙুল দিয়ে পরিষ্কার করে মুখে মুখ রেখে শ্বাস দিতে হবে৷
 যদি মুখে মুখে শ্বাসক্রিয়া চালু না করা যায় অর্থাত্‌ বাতাস যদি ফুসফুসে প্রবেশ না করে তবে বুঝতে হবে শ্বাসনালী ও ফুসফুস সম্পূর্ণ পানিতে ভর্তি৷ সে অবস্থায় রোগীকে ডাঙ্গায় তুলে এনে ফুসফুস থেকে পানি বের করতে হবে৷ প্রথমে রোগীকে উপুড় করে শুইয়ে দিতে হবে৷ তারপর পেট ধরে উচু করতে হবে যাতে মাথা, বুক নিচের দিকে থাকে৷ পিঠে আস্তে আস্তে চাপড় দিতে হবে৷ এতে পাকস্থলী, শ্বাসনালী ও ফুসফুসের পানি বের হয়ে আসবে৷ পানি বের করার জন্য বেশি সময় নেয়া যাবে না৷ তারপর কৃত্রিম পদ্ধতিতে শ্বাস-প্রশ্বাস চালিয়ে যেতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস আরম্ভ হয়৷
 সম্ভব হলে  ভেজা কাপড় খুলে দিতে হবে৷ হাত-পা ঠাণ্ডা হলে ম্যাসেজ বা গরম সেঁক দিতে হবে৷
 রোগীকে আরামে শুইয়ে রাখতে হবে, পায়ের দিক কিছু ওপরে ও মাথা কিছু নিচের দিকে রাখলে ভালো হয়৷
 অবস্থা ভালো থাকলে কুসুম গরম দুধ, চা ইত্যাদি খেতে দেয়া যায়৷

✬ অবস্থা ভালো না হলে নিকটস্থ হাসপাতালে দ্রুত নিয়ে যেতে হবে৷ প্রয়োজনে অক্সিজেন দিতে হবে৷

[আপনাদের সুখী জীবন আমাদের কাম্য। ধন্যবাদ।]
Share:

0 comments:

Post a Comment

Follow by Email

স্বাস্থ্য কথা. Powered by Blogger.