Total Pageviews

Monday, October 16, 2017

অন্তঃসত্বা অবস্থায় শাররীক মিলন উচিৎ-অনুচিৎ কতটা বিপদজনক?

সবছে বেশি সংখ্যক গর্ভবতী নারীর মনে প্রশ্ন থাকে “অন্তঃসত্বা অবস্থায় কি শাররীক মিলন করা যায়?” উত্তর প্রায় সবসময়/বেশিরভাগ নারীর জন্য “হ্যাঁ”। যদি আপনার গর্ভকালীন সময় স্বাভাবিক ভাবে চলমান থাকে তাহলে আপনি সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায়ও শাররীক মিলন করতে পারেন। এবং আপনার স্বামী যতদিন পর্যন্ত মানসিক বাঁধায় না থাকেন ততদিন বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করে শাররীক মিলন করতে পারেন। যাইহোক, অনেকগুলো কারন আছে যার ফলে আপনি গর্ভকালীন সময়ের নির্দিষ্ট কিছু সময়ব্যপ্তিতে শাররীক মিলন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।


কি কি কারনে গর্ভকালীন সময় যৌনমিলন থেকে বিরত থাকতে হবে?

কোন কারনে যৌনাঙ্গ থেকে রক্তক্ষরন হলেঃ গর্ভকালীন সময়ে অল্প কিংবা বেশি রক্তক্ষরন পরিলক্ষিত হলে শাররীক মিলন থেকে বিরত থাকতে হবে।
প্রাক প্রসব বেদনাঃ বীর্যের সংশ্চর্ষে প্রোস্টাগ্লেনডিনস্ সংকুচিত হবার সম্ভাবনা থাকে যা প্রাক-প্রসব-বেদনাকে ঝামেলাপূর্ণ করে তুলতে পারে।
আপনার কিংবা আপনার স্বামীর কোন প্রকার যৌন-সংক্রামন ব্যাধি থাকলে গর্ভকালীন শাররীক মিলন থেকে বিরত থাকতে হবে।
জরায়ুর গলদেশে সমস্যা থাকলেঃ যদি আপনার জরায়ুর মুখ অকালে খুলতে শুরু করে তাহলে শাররীক মিলন করলে রোগ সংক্রমনের সমুহ সম্ভাবনা থাকে।
গর্ভের ফুল/অমরা সমস্যায় থাকলেঃ যদি গর্ভের ফুল/অমরা জরায়ুমুখ আংশিক কিংবা সম্পুর্নরূপে ঢেকে ফেলে তাহলে শাররীক মিলনের ফলে রক্তপাত এবং প্রাক প্রসব বেদনা শুরু হয়ে যেতে পারে।
যদি আপনার ডাক্তার আপানাকে গর্ভকালীন শাররীক মিলন থেকে বিরত থাকতে বলে তাহলে খুজে বের করুন ডাক্তার কি বলতে চেয়েছে? ডাক্তার কি শাররীক মিলন থেকে বিরত থাকতে বলেছে নাকি যৌন উত্তেজনা/তৃপ্তি থেকে বিরত থাকতে বলেছে? আর যদি ডাক্তার বারন করে তাহলে অবশ্যই জেনে নিবেন – কত সময়ের জন্য বারন করেছেন? উদাহরন স্বরূপঃ অনেক নারীর গর্ভধারনের প্রাথমিক ধাপে (প্রথম তিনমাস সময়ে) যদি অল্প পরিমান রক্তক্ষরন হয় তাহলে ডাক্তার বলেন শেষ বার রক্তক্ষরনের পর কমপক্ষে এক সপ্তাহ সময়কাল মিলন/অন্যকোন ভাবে যৌন তৃপ্তি থেকে বিরত থাকেন।

গর্ভবতী অবস্থায় নারীর জন্য আরামদায়ক যৌন আসন ভঙ্গি সমুহঃ

গর্ভকালীন সময় অন্য সময় কালের মত আসন ভঙ্গিতে শাররীক মিলন করা যায়না। এটি মা এবং সন্তান উভয়ের জন্য ক্ষতির কারন হতে পারে। তাই এই সময়কালে যৌন আসন সম্পর্কে সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরী।

নারী উপরেঃ এ আসনে নারীর নিয়ন্ত্রন থাকে কত গভীরতায় লিঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হবে। এ পদ্ধতিতে বেশিরভাগ কার্যক্রম নারী নিজের ইচ্ছে/সুবিধা মত করতে পারেন। এই ভঙ্গিতে গর্ভের পুরো সময়কাল এমনকি শেষ সময়েও নারী অনেক কম ঝুকিতে থাকেন।

স্পুনিং / একপাশে কাত হয়ে শুয়ে মিলনঃ এ আসনে নারী হাটেু ভেঙ্গে পাশে কাত হয়ে শুবেন এবং স্বামী স্ত্রীর পিছেনে থেকে শাররীক মিলন করবেন। স্পুনিং ভাল ভাবে কাজ করে যদি পুরুষ নারীর ঊরূর মাঝে দিয়ে লিঙ্গ সঞ্চালন করেন। এ পদ্ধতিতে তলপেটে কোন চাপ পড়েনা এবং আস্তে আস্তে মিলন করার সুবিদা থাকে যা গর্ভবতীর জন্য জরুরী।

হাটু এবং হাতে ভরঃ এই ভঙ্গিটি দেখতে হামাগুড়ি দিয়ে হাটার সময় শরীরের যে রকম আকার হয় সেরকম। এই ভঙ্গিটিও গর্ভবতী নারীর জন্য ভাল – এতে পেটে কোন প্রকার চাপ পড়েনা।

অনেক বিবাহিত যুগল এই ভেবে উদ্বিগ্ন থাকেন যে – গর্ভবতী অবস্থায় শাররীক মিলন করলে গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে, প্রধানতঃ গর্ভধারনের প্রথম তিন মাস সময়কালে। সাধারনত প্রাথমিক পর্যায়ে ভ্রুন নষ্ট হওয়া ক্রোমোজোম অস্বাভাবিকতা অথবা নিষিক্ত ডিম্বানু ভ্রুনে রূপান্তরিত হবার সময়কালে অন্যান্য সমস্যার সাথে সম্পর্কিত – শাররীক মিলনের ফলে ভ্রুন নষ্ট হবার ধারনাটি ভুল।

[ আপনাদের সুখী জীবনই আমাদের কাম্য ]
Share:

1 comment:

Follow by Email

স্বাস্থ্য কথা. Powered by Blogger.